গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি : গোলাপগঞ্জে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে ছাত্রলীগের দেয়া আগুনে পুড়ল 'মেসার্স মঈন এন্ড মল' নামে একটি দোকান।
গত (২৬ মে) দিবাগত গভীর রাতে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে।
ঘটনার ৪ দিন পর দোকানের স্বত্তাধিকারী মো.মঈন উদ্দিন বাদী হয়ে ৫ জনের নামোল্লেখ করে সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। তিনি উপজেলার পশ্চিম আমুড়া ইউনিয়নের ঘাগুয়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার আসামিরা হলেন, উপজেলার পশ্চিম আমুড়া ইউনিয়নের আমুড়া গ্রামের রুস্তম আলীর ছেলে রাসেল, একই গ্রামের আকমল আলীর ছেলে রাহাত চৌধুরী, শিকপুর গ্রামের মনোহর আলীর ছেলে জাবের আহমদ, শিলঘাট গ্রামের আবুল লেইছের ছেলে ইমন আহমদ ও আমনিয়া গ্রামের রেজাউল আলমের ছেলে সৈয়দ জাকির।
মামলা সূত্রে জানা যায়, আসামিগণ স্থানীয় ছাত্রলীগের নেতাকর্মী। এলাকায় তাদের বেশ প্রভাব রয়েছে। মামলার বাদী মো.মঈন উদ্দিনের ছেলে মোঃ সুলতান আহমদ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সক্রিয় কর্মী। তাই রাজনৈতিক বিরোধিতার জের ধরে আসামীগণ বেশ কয়েকদিন আগে বাদীর ছেলেকে মারধর করে আহত করে। এ বিষয়ে বাদির পিতা থানায় অভিযোগ করতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তা গ্রহণ করেনি। উল্টো ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা প্রাণে হত্যার হুমকি দেয়। ছেলের জীবনের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বাদী তার ছেলে সুলতান আহমদকে স্টুডেন্ট ভিসার মাধ্যমে ইংল্যান্ডে পাঠিয়ে দেন। পরে ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীরা বাদীর দোকানে এসে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। বাদি তা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলে হত্যা, গুম ও মামলা মোকদ্দমার হুমকি ধামকিসহ সুযোগমতো উচিৎ শিক্ষা নিবে বলিয়া সন্ত্রাসীরা চলে আয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৬ মে ২০২৩ইং দিবাগত রাত অনুমানিক ১টার দিকে সন্ত্রাসীরা বাদির দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়। এসময় বাজারে দোকানের এক কর্মচারী ও নৈশপ্রহরী ঘটনাটি দেখতে পেয়ে মোঃ মঈন উদ্দিনকে খবর দিলে তিনি ঘটনাস্থলে এসে দেখতে পান পুরো দোকান পুড়ে ছাই হয়ে তার মালিকানাধীন দোকান 'মেসার্স মঈন এন্ড মল'।
বাদি তাৎক্ষণিক বিষয়টি বাজার কমিটিকে অবগত করে লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে থানা কর্তৃপক্ষ তার অভিযোগ গ্রহণ করেনি। আসামিগণ সরকারদলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকায় তাদের বেশ প্রভাব রয়েছে। তাই তিনি ঘটনার ৪দিন পর গতকাল ৩০ মে সিলেটের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেন। গোলাপগঞ্জ সি.আর মামলা নং-৩৮২/২০২২ ইং। তারিখ: ৩০/০৫/২০২০ ইং।
বাদী অভিযোগ করেন, অগ্নিকান্ডে প্রায় ২ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার ক্ষমতা তার নেই। তিনি ও তার পরিবার বড়ই নিরাপরাহীনতায় ভোগছেন। তার ছেলে মোঃ সুলতান আহমদ দেশে ফিরে আসলে সন্ত্রাসীরা যে কোনো সময় তাকে প্রাণে হত্যা করবে। ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনসহ স্থানীয় লোকজন কোন ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ। বড়ই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি।
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, সুনির্দিষ্ট প্রমান ছাড়া কারো বিরুদ্ধে মামলা দেয়া সম্ভব নয়। তারা মোঃ মঈন উদ্দিনের দোকানঘর পরিদর্শন করেছেন। কে বা কারা এ আগুন দিয়েছে ও ব্যাপারে তাদের কাছে কোন প্রমাণ নেই। এ বিষয়ে আদালত মামলা গ্রহণ করে নির্দেশ দিলে তা তদন্ত করে দেখা যাবে।
