নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচিতে হামলা, মারধর ও গুলিবর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ছাত্রলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী মহিন (২২)সহ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর নাম উঠে এসেছে। ঘটনাটি নিয়ে নগরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের হওয়া মামলায় ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট ২০২৪ বিকেলে সিলেট নগরীর নয়াসড়ক পয়েন্ট এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন। এ সময় হঠাৎ একদল হামলাকারী দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। হামলায় বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও পথচারী আহত হন। গুরুতর আহতদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, হামলার সময় আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ধাওয়া, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করা হয়। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দোকানপাট বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে সরে যান। কয়েক মিনিটের মধ্যেই নয়াসড়ক ও আশপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মামলার আসামিদের তালিকায় থাকা মোহাম্মদ আলী মহিন (২২) স্থানীয়ভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। মামলায় তার বিরুদ্ধে হামলায় অংশগ্রহণ এবং আন্দোলনকারীদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত তার বা তার পরিবারের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় ফৌজদারি দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলছে এবং ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার পর থেকেই সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সহিংসতা এড়াতে প্রশাসনকে আরও কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
