মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: ২০২৪ সালের আগস্টের পূর্বে ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। কিন্তু পটপরিবর্তনের পর খোলস পাল্টে হয়ে বনে গেলেন বিএনপির বড় নেতা। তিনি রানা মিয়া। তাকে নিয়ে এমন গুরুতর অভিযোগ করেছেন মৌলভীবাজার জেলা শহরের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা। অভিযোগ উঠেছে বর্তমানে রানা মিয়া বিএনপির নাম ভাঙিয়ে জেলাজুড়ে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন।
গোপন সূত্রে জানা যায়, রানা মিয়া এক সময় আওয়ামীলীগের ছত্রছায়ায় ব্যবসার আড়ালে নানা ধরণের অপকর্মের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। বর্তমানে বিএনপির প্রভাবশালী নেতাদের টাকার বিনিময়ে তিনি তার আয়ত্তে নিয়ে এসেছেন। এই সুযোগ তিনি জেলা জুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছেন। চাঁদা না দিলে মানুষকে মারধর ও বাসা বাড়িতে হামলার মতো ঘটনা চালিয়ে যাচ্ছেন রানা মিয়া।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, ৫ আগস্টের পূর্বে রানা মিয়া আওয়ামী লীগের প্রভাব বিস্তার করে চালিয়েছেন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। জেলা জুড়ে ছিলো তার গুণ্ডা বাহিনী। তিনি সহ তার বাহিনীকে ব্যবহার করে বড় বড় ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রতিদিন ও মাসিক হারে চাঁদা তোলার মতো গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি, মামলা বা আদালতের রেকর্ড যাচাই করা প্রয়োজন।
রানা মিয়ার বিরুদ্ধে আরও গুরুতর অভিযোগ করেন স্থানীয়রা। তারা বলেন, পটপরিবর্তনের পর বিএনপির নাম ব্যবহার করে জেলা জুড়ে তিনি শক্তিশালী বলয় তৈরি করেছেন। তাদের দিয়ে বিভিন্ন সরকারি ও টেন্ডার কার্যক্রমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি জেলা প্রশাসন থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলের কিছু ব্যক্তির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতার কারণেই তিনি প্রভাব বিস্তার করতে পারছেন এমন অভিযোগও করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের প্রশ্ন, রানা মিয়া পটপরিবর্তনের পূর্বে ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা। বর্তমানে তিনি বিএনপির রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি কাজ, টেন্ডার বা ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে প্রভাব বিস্তার চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, এমন অভিযোগের নিরপেক্ষ সত্যতা নিশ্চিত করে তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এ বিষয়ে রানা মিয়ার বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে অভিযোগের বিষয়টি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি পক্ষ হিংসাত্মক ভাবে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে সরকারি টেন্ডার, উন্নয়নকাজ এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
