|

সিলেটে দুই যুবলীগ নেতা ছেলেকে নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মায়ের মৃত্যু


নিজস্ব প্রতিবেদক : সিলেট জেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক মো.শাহিন আহমদ ও তার ভাই জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শামিম আহমদ। দুজনেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর বিভিন্ন মামলায় আসামি হয়েছেন। একাধিকবার তাদের দুইটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নগরীর চৌহাট্টা ও শিবগঞ্জে ইউনিক ফার্মেসীতে ভাঙচুর চালায় জামায়াত-শিবির ও বিএনপির লোকজন৷

এমন অবস্থায় দুই ছেলেকে নিয়ে চরম দুঃশ্চিন্তায় দিনপাড় করতে থাকেন তাদের গর্ভধারিনী মা আনোয়ারা বেগম। সবশেষ গত ৫ মে পুনরায় তার ছেলে শাহিন আহমদকে খুঁজতে তাদের বাসায় হামলা চালায় বিএনপি ও জামায়াতের লোকজন। এসময় ভয় পেয়ে সাথে সাথে অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধা আনোয়ারা বেগম। নিয়ে যাওয়া হয় আল হারামাইন হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষার পর জানান তিনি প্রচন্ড ভয় ও দুঃশ্চিন্তায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। এরপর হাসপাতালেই তার চিকিৎসা চলতে থাকে। তবে গতকাল (১৪ মে) রাত সাড়ে ৮ টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এদিকে জীবনের চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে মব ও গ্রেপ্তারের ভয়ে গর্ভধারিনী মাকে শেষ বিদায় জানাতে দেশে ফিরতে পারেননি মো.শাহিন আহমদ ও তার ভাই মো.শামিম আহমদ।

শাহিন আহমদ মুঠোফোনে জানান,'আমি যখন লন্ডনে আসি তখন আমার মা আমার সাথে ছিলেন। উদ্দেশ্যে ছিলো কয়েকদিন পর মাকে নিয়ে আবারও দেশে চলে যাবো। কিন্তু দেশে আন্দোলনের পর আমার উপর হয়রানিমূলক মামলা হয়৷ আমার বাসা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা হয়। তখন আমি জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে দেশে ফিরতে পারিনি। আমার মা একাই দেশে ফিরেন। এটাই ছিলো আমার সাথে আমার মায়ের শেষ দেখা। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, চিরদিনের জন্য মা-কে হারালাম। তবে শেষ বিদায় দিতে পারলাম না।'

স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, মো.শাহিন আহমদ ও তার ভাই মো.শামিম আহমদ আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকায় শেখ হাসিনার পতনের পর তাদের খুঁজতে বার বার বাসায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালায়। অপরদিকে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাদের বাসায় গিয়ে তাদের না পেয়ে বাসায় হামলা চালায়৷ এই অবস্থায় তাদের মা আনোয়ারা বেগম চরম নিরাপত্তাহীনতায় ছিলেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post