নিজস্ব প্রতিবেদক : বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের ৬ মাস পূর্বে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমিয়েছেন বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফুয়াদ আহমদ। প্রবাসে থাকলে তিনি গোলাপগঞ্জে ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম হত্যা মামলার আসামি হয়েছেন।
গত (২৫ আগস্ট) গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় নাজমুল ইসলাম হত্যায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং: ১০/১৩৮, তাং:২৫/৮/২০২৪ইং) দায়ের করেন নিহত নাজমুল ইসলামের স্ত্রী মোছাঃ খাদিজা মাহিনুর (২২)।
নিহত নাজমুল ইসলামের বাড়ি উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের নিশ্চিন্ত গ্রামে। স্বামী নাজমুল হত্যায় স্ত্রী খাদিজা মাহিনুর সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদকে প্রধান আসামি করে ১১৯ জনের নামোল্লেখ ও ১০০/১১০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় ৫২ নাম্বার আসামি করা বিয়ানীবাজার উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি ফুয়াদ আহমদকে। তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলার মাতিউরা গূর্বপাড়া গ্রামের মো.আব্দুল হেকিমের ছেলে৷
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট দুপুর পোনে ১ টার দিকে শেখ হাসিনা সরকার পতনের দাবিতে সারাদেশের ন্যায় গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের বারকোটস্থ স্থানে ছাত্র-জনতার সাথে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন নিহত নাজমুল ইসলাম। এসময় পূর্বপরিকল্পিত ভাবে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা, পুলিশ, বিজিবি মিছিলকে লক্ষ্য করে দেশী-বিদেশী অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। হামলার এক পর্যায়ে নিহত নাজমুল ইসলাম গুলিবিদ্ধ হলে তাকে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তীতে তাকে সিলেট ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এঘটনায় নাজমুল ইসলামের স্ত্রী হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এদিকে জানা যায়, ছাত্রলীগ নেতা ফুয়াদ আহমদ আন্দোলনের পূর্ব হতে যুক্তরাজ্য রয়েছেন। তিনি দেশে থাকাকালীন সময়ে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। রাজনীতিতে তার উপস্থিতি ছিলো হিংসনীয়। যে কারণে তার বিরুদ্ধে অবস্থান ছিলো অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের। এবার সেই সুযোগে তাকে হত্যা হামলার আসামি করা হয়েছে৷ হত্যা মামলার আসামি হওয়ায় উদ্বিগ্ন আর উৎকণ্ঠায় দিনযাপন করছেন ফুয়াদ আহমদের পরিবারের সদস্যরা৷ এদিকে ফুয়াদ আহমদ রয়েছেন চরম দুঃশ্চিন্তায়।
