নিজস্ব প্রতিবেদক : সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে দেশ-বিদেশে থাকা নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা, তাদের বাসা-বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, পুলিশী তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মহিবুর রহমানের উপরও৷
জানা যায়, মহিবুর রহমান দেশ থাকাকালীন সময়ে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন৷ দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তিনি বিরোধী দলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের রোষানলে পড়েছেন একাধিকবার। যার ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে এখন পর্যন্ত। বিগত ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে তিনি যুক্তরাজ্য পাড়ি জমালেও মিথ্যা মামলা থেকে তিনি বাঁচতে পারেননি। শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর তার বিরুদ্ধে সিলেটে একটি হত্যা চেষ্টা ও সিলেটের গোলাপগঞ্জে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। যে সকল মামলার কারণে তার বাড়িতে পুলিশী তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে৷ দিনরাতে যে কোন সময় তার খুঁজে বাড়িতে অভিযান চালায় পুলিশ।
আরও জানা যায়, ছাত্রলীগের রাজনীতি করার কারণে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের পর তার বাড়িতে একাধিক বার হামলা চালায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা। তাকে না পেয়ে তার বাড়িতে হামলা চালায় ও পরিবারের সদস্যদের হুমকি ধমকি দিয়ে আসেন তারা। মহিবুর রহমান কখনো দেশে ফিরলে তাকে বাঁচতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেয় তারা৷
আরও জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে শায়েস্তানগর কবরস্থান সড়কে মহিবুর রহমানকে একা পেয়ে তার উপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। হামলায় তিনি গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। এসময় তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দুইদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
এদিকে বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় না থাকায় মহিবুর রহমানের দেশে ফেরা ঝুঁকিপূর্ণ। দেশে ফিরলে হয়তো তিনি দুইটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি হবেন আবার বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের হামলায় তার প্রাণনাশের আশংকা রয়েছে।
