জুড়ী (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের জুড়ী নাইট চৌমুহনীতে প্রকাশ্য দিবালোকে এক বর্বরোচিত, কাপুরুষোচিত ও নজিরবিহীন সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন জুড়ী উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়া হোসেনের গাড়ি ও চালক। মোটরসাইকেলের বেপরোয়া ও বিপজ্জনক ড্রাইভিংয়ের মতো একটি অতি তুচ্ছ ঘটনার যৌক্তিক প্রতিবাদ করায় এই ছাত্রনেতার ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে প্রকাশ্য রাস্তায় মধ্যযুগীয় কায়দায় পৈশাচিক তাণ্ডব চালিয়েছে স্থানীয় এনসিপি (NCP), জামায়াত ও বিএনপির একদল চিহ্নিত উগ্র সন্ত্রাসী ও ক্যাডার বাহিনী।
হামলাকারীরা লোহার রড দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে গাড়িটির সামনের প্রধান উইন্ডশিল্ড গ্লাস পিটিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে চুরমার করে দেয়। একই সাথে চরম উগ্রতা ও আস্ফালন প্রদর্শন করে বুক ফুলিয়ে আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে যে, এই বর্বর হামলা নিয়ে যদি পরবর্তীতে আর কোনো প্রকার কথা বলা হয়, মুখ খোলা হয় কিংবা আইনি পদক্ষেপের চেষ্টা করা হয়—তবে গাড়িটি পেট্রোল ঢেলে সম্পূর্ণ পুড়িয়ে (জ্বালিয়ে) কয়লা করে দেওয়া হবে। গত ২ অক্টোবর সন্ধ্যার দিকে জুড়ী নাইট চৌমুহনী এলাকায় এই ন্যাক্কারজনক, সন্ত্রাসী ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক হামলার ঘটনা ঘটে।
নৃশংস ও রোমহর্ষক এই ঘটনার বিবরণ এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল ২ অক্টোবর সন্ধ্যায় জুড়ী উপজেলা ছাত্রলীগের প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় নেতা জাকারিয়া হোসেনের ব্যক্তিগত গাড়িটি জুড়ী বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে হঠাৎ একজন মোটরসাইকেল আরোহী অত্যন্ত বিপজ্জনক ও বেপরোয়া গতিতে এসে চলন্ত গাড়ির সামনে ঢুকে পড়ে। বড় ধরনের রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা এড়াতে গাড়ির চালক ওই আরোহীকে কিছুটা সচেতনভাবে ও সাবধানে গাড়ি চালানোর অনুরোধ করেন। এই অত্যন্ত সাধারণ ও যৌক্তিক কথাটি বলার সাথে সাথেই সেখানে পূর্ব থেকে ওত পেতে থাকা জুড়ী উপজেলা এনসিপির সদস্য সচিব আফজল হুসাইনের চিহ্নিত ক্যাডার বাহিনী ও জামায়াত-ই-ইসলামীর কয়েকজন উগ্র কর্মী চরম হিংস্র হয়ে ওঠে এবং প্রকাশ্য রাজপথে চালককে অকথ্য ও কুৎসিত ভাষায় গালিগালাজ করে।
এর প্রায় ঘণ্টাখানেক পর, চালক গাড়িটি নিয়ে বাসায় ফেরার পথে পূর্বপরিকল্পিত খুনে নীলনকশা অনুযায়ী একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র ও লোহার রড নিয়ে জুড়ী নাইট চৌমুহনী নামক স্থানে গাড়িটির গতি রোধ করে চারপাশ থেকে ঘিরে ফেলে। হামলাকারীরা চালককে গাড়ি থেকে টেনে-হেঁচড়ে রাস্তায় নামিয়ে পশুর মতো এলোপাতাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত ও গুরুতর জখম করে। এক পর্যায়ে চরম উগ্রতা ও রাজনৈতিক ক্ষোভ উগরে দিয়ে তারা ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়া হোসেনের গাড়িটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা হাতের লোহার রড দিয়ে হিংস্রভাবে পিটিয়ে গাড়ির সামনের পুরো গ্লাসটি চুরমার করে ফেলে। হামলাকারীরা প্রকাশ্য দিবালোকে হুমকি দিয়ে যায় যে, এই ঘটনা নিয়ে কোথাও কোনো কথা বললে বা বিচার চাইলে গাড়িটি সম্পূর্ণ জ্বালিয়ে ভস্মীভূত করা হবে এবং চালক ও মালিককে প্রাণে মেরে ফেলা হবে।
এই কুখ্যাত সন্ত্রাসী চক্রের তাণ্ডব কেবল রাস্তাঘাটেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ঘটনার পর থেকে তারা নিয়মিত গভীর রাতে দলবদ্ধ ও সশস্ত্র হয়ে ছাত্রলীগ নেতা জাকারিয়া হোসেনের বসতবাড়ি ঘেরাও করছে। গভীর রাতে শান্ত পরিবেশ বিনষ্ট করে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত নোংরা, আপত্তিকর ও কুৎসিত গালিগালাজ করা হচ্ছে। বাড়িতে থাকা তাঁর বৃদ্ধা মাকে প্রতিনিয়ত ঘর থেকে টেনে বের করার ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সন্ত্রাসীদের এমন ধারাবাহিক, উগ্র ও বন্য আচরণের কারণে বর্তমানে ভুক্তভোগী নেতার পুরো পরিবার অবরুদ্ধ অবস্থায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও গভীর জীবন-শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছে।
ভুক্তভোগী নেতার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ, জুড়ী নাইট চৌমুহনীর এই পৈশাচিক হামলার মূল মাস্টারমাইন্ড, প্রত্যক্ষ নেতৃত্ব ও উস্কানিতে সরাসরি জড়িত ছিলেন জুড়ী উপজেলা এনসিপির সদস্য সচিব আফজল হুসাইন, জামায়াতের উপজেলা শাখার প্রধান তারেক এবং বিএনপির বেশ কয়েকজন স্থানীয় চিহ্নিত শীর্ষ সন্ত্রাসী। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে একজন জনপ্রিয় ছাত্রনেতার ওপর এমন কাপুরুষোচিত ও পৈশাচিক হামলার ঘটনায় জুড়ীর সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ, গণ-অসন্তুোষ ও তীব্র গণ-নিন্দার ঝড় বইছে। এলাকাবাসী ও সচেতন মহল এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র ধিক্কার ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্বে এই কুখ্যাত হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
