|

সিলেটে হত্যা মামলায় আসামি হলেন ছাত্রলীগ নেতা ফাহিম


দক্ষিণ সুরমা প্রতিনিধি : সিলেটে বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত পাবেল আহমদ কামরুল হত্যা মামলায় আসামি হলেন ছাত্রলীগ নেতা ফাহিম আহমদ (২৫)।

গত ২২ আগস্ট সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালত ও আমলী আদালত নং-২ এ পাবেল আহমদ কামরুল (১৮) হত্যা মামলায় তার পিতা মো.রফিক আহমদ বাদি হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। যা দক্ষিণ সুরমা থানার মামলা (মামলা নং-৫, তাং-২৩/৮/২০২৪ইং ও দক্ষিণ সুরমা থানার সি.আর মামলা নং-১৩৮/২০২৪ইং)। বাদি মো.রফিক আহমদ গোলাপগঞ্জ উপজেলা ঢাকাদক্ষিণ ইউনিয়নের কানিশাইল গ্রামের আপ্তাব আলীর ছেলে।

মামলায় সিলেট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিবকে প্রধান আসামি করেন। এছাড়া আরও ৫৯ জনের নামোল্লেখ ও ২০০/৩০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করেন।

উক্ত মামলায় ছাত্রলীগ নেতা ফাহিম আহমদকে ৪৪ নং আসামি করা হয়েছে৷ তিনি সিলেট মহানগর ছাত্রলীগের প্রস্তাবিত কমিটির সহসভাপতি। তিনি মোগলাবাজার থানার কাদিপুর গ্রামের আব্দুস শহিদ শাহীনের ছেলে।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, নিহত পাবেল আহমদ কামরুল একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী৷ ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া কোটা বিরোধী আন্দোলনের একজন সক্রিয় সদস্য ছিলো। শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখতে ছাত্র-জনতার মিছিল রুখতে ১ আগস্ট রাতে মামলার আসামিরা পরিকল্পনা করেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন ৫ আগস্ট দুপুরে দক্ষিণ সুরমা থানার ক্বিন ব্রিজের সামনে ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে মামলা আসামি আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা দেশী ও আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। হামলায় অসংখ্য ছাত্র-জনতা গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। এসময় গুলিবিদ্ধ হন মামলার বাদি রফিক আহমদের ছেলে পাবেল আহমদ কামরুল। ঘটনাস্থল থেকে তাকে উদ্ধার করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে মামলার আসামি হওয়ার পর থেকে গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন ছাত্রলীগ নেতা ফাহিম। তাকে গ্রেপ্তারে হন্য হয়ে খুঁজছে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। গ্রেপ্তার হলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ডও হতে পারে তার।

Post a Comment

Previous Post Next Post