নিউজ ডেস্ক : যুক্তরাজ্যে থেকেও একাধিক মামলার আসামি ছাত্রলীগ নেতা কাওসার আহমদের খুঁজে বাড়িতে তল্লাশী চালিয়েছে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতারা।
গতকাল (১০ অক্টোবর) বিকেলে গোলাপগঞ্জ উপজেলা আমুড়া ইউনিয়নের সুন্দিশাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
কাওসার আহমদ উপজেলার আমুড়া ইউনিয়নের সুন্দিশাইল গ্রামের মো.রফিক উদ্দিনের ছেলে৷ বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। কাওসার আহমদ আমুড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত ৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি।
জানা যায়, কাওসার আহমদ জীবন-জীবিকার তাগিদে বর্তমানে দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন। দেশে থাকাকালীন সময়ে তিনি আমুড়া ইউনিয়নের অন্তর্গত ৩নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি ও মহানগর ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তার পুরো পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত। তার দাদা ছিলেন একজন মুক্তিযুদ্ধা। মহান মুক্তিযুদ্ধে সুন্দিশাইল গ্রামে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে নির্মম ভাবে নিহত হন কাওসার আহমদের দাদা আসদ আলী।
আরও জানা যায়, ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে বিএনপি-জামায়াত ও বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা তাকে খুঁজতে তার বাড়িতে যায়৷ তাকে না পেয়ে তার পরিবারের সদস্যদের হুমকি ধমকি দিয়ে আসেন তারা৷ এছাড়া একাধিক মামলার আসামি হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তার বাড়িতে অভিযান চালায়৷ সবশেষ গতকাল ১০ অক্টোবর তার খুঁজে বাড়িতে যায় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী এবং বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের নেতারা।
আরও জানা যায়, কাওসার আহমদের চাচাতো ভাই আমুড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামরান আহমদ। বিভিন্ন মামলায় আসামি হয়ে তিনি বর্তমানে জেল হাজতে রয়েছেন। এছাড়া তার আরেক চাচাতো ভাই সিলেট জেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ এমরুলও একাধিক মামলার আসামি। তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে রয়েছেন। কাওসার আহমদের পরিবার আওয়ামী রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় তাদের এমন মামলার শিকার হতে হয়েছে।
এদিকে কাওসার আহমদ যুক্তরাজ্যে অবস্থান করলেও একাধিক মামলায় আসামি হওয়ায় রয়েছেন বিষণ দুঃশ্চিন্তায়। দেশে থাকা তার পরিবারের সদস্যরা রয়েছেন চরম নিরাপত্তাহীনতায়। উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠায় কাটছে তাদের দিন।
